সম্ভাবনার হাতছানি দিচ্ছে বাঁশখালী সমুদ্র সৈকত, প্রয়োজন পরিকল্পিত উন্নয়ন

0
41

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি:

বঙ্গোপসাগরের কোল ঘেঁষে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের অপার লীলাভূমি চট্টগ্রামের বাঁশখালী সমুদ্র সৈকত। দীর্ঘ বালুকাবেলা, সাগরের ঢেউ, সারি সারি ঝাউবন আর মনোমুগ্ধকর সূর্যাস্ত—সব মিলিয়ে এই সৈকত ইতোমধ্যে ভ্রমণপিপাসু মানুষের কাছে আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে।

বাঁশখালী সমুদ্র সৈকতটি উপজেলার ছনুয়া, গণ্ডামারা, সরল, বাহারছড়া ও খানখানাবাদ উপকূলজুড়ে বিস্তৃত। বিভিন্ন সূত্রে সৈকতটির দৈর্ঘ্য প্রায় ৩৭ কিলোমিটার বলে উল্লেখ করা হয়েছে। কদমরসুল ও খানখানাবাদসহ একাধিক পয়েন্টে পর্যটকদের আনাগোনা রয়েছে।

সৈকতের অন্যতম আকর্ষণ নিরিবিলি পরিবেশ ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্য। বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা নামার সময় সাগরের বুকে সূর্যাস্তের দৃশ্য মুগ্ধ করে দর্শনার্থীদের। পাশাপাশি ঝাউবন, বিস্তীর্ণ বালুচর ও সাগরের ঢেউ তৈরি করে ভিন্ন এক আবহ। স্থানীয় পর্যটনকেন্দ্রগুলোর মধ্যে কদমরসুল, খানখানাবাদ ও বাহারছড়া পয়েন্টে দর্শনার্থীদের উপস্থিতি দেখা যায়।

চট্টগ্রাম নগরী থেকে বাঁশখালী সমুদ্র সৈকতের দূরত্ব প্রায় ৪০ কিলোমিটার। গুনাগারী বাজার হয়ে বিভিন্ন পয়েন্টে যাতায়াত করা যায়। তবে পর্যটন সম্ভাবনা থাকলেও যোগাযোগব্যবস্থা, পর্যাপ্ত পর্যটন সুবিধা, নিরাপত্তা ও বিনোদন অবকাঠামোর ঘাটতি এখনো বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়েছে।

সম্প্রতি বাহারছড়া সমুদ্র সৈকতে যাওয়ার সড়কের প্রবেশমুখে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের ঘটনাও ঘটেছে, যা পর্যটকদের চলাচল সহজ করতে ভূমিকা রাখছে।

স্থানীয়দের প্রত্যাশা, পরিকল্পিতভাবে সড়ক যোগাযোগ উন্নয়ন, পর্যটকদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ, পর্যাপ্ত বসার স্থান, পরিচ্ছন্নতা, স্যানিটেশন, পার্কিং ও পর্যটনসুবিধা নিশ্চিত করা গেলে বাঁশখালী সমুদ্র সৈকত চট্টগ্রামের অন্যতম প্রধান পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠতে পারে।

প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের পাশাপাশি স্থানীয় অর্থনীতিতে কর্মসংস্থান ও ব্যবসার সুযোগ তৈরিরও রয়েছে ব্যাপক সম্ভাবনা। তাই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পরিকল্পিত উদ্যোগ ও সরকারি পৃষ্ঠপোষকতার মাধ্যমে বাঁশখালী সমুদ্র সৈকতকে আধুনিক পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার দাবি স্থানীয়দের।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here