
বাঁশখালী প্রতিনিধি:
চট্টগ্রামের বাঁশখালী ক্রিকেট একাডেমির কৃতি ছাত্র ইমরান হোসেন তানভীর জাতীয় পর্যায়ের ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস ২০২৫-২৬’ সিজন-১-এ অসাধারণ পারফরম্যান্সের স্বীকৃতিস্বরূপ বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান (বিকেএসপি)-তে প্রশিক্ষণের সুযোগ পেয়েছে। মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) চট্টগ্রাম জেলা ক্রীড়া অফিসার আবদুল বারী স্বাক্ষরিত এক লিখিত পত্রের মাধ্যমে তানভীরের বিকেএসপিতে প্রশিক্ষণের সুযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।
তানভীরের এই অর্জনের খবরে তার পরিবার, স্বজন, শিক্ষক, সহপাঠী, কোচ ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের মধ্যে আনন্দের সৃষ্টি হয়েছে। একই সঙ্গে তার সাফল্যে বাঁশখালীর ক্রীড়াঙ্গনেও বইছে আনন্দের জোয়ার। উপজেলা থেকে জাতীয় পর্যায়েু তানভীরের যাত্রা, তানভীর বাঁশখালী ক্রিকেট একাডেমির নিয়মিত প্রশিক্ষণার্থী। ছোটবেলা থেকেই ক্রিকেটের প্রতি তার আগ্রহ, নিষ্ঠা ও পরিশ্রম একাডেমির পরিচালক ও প্রধান কোচ মোহাম্মদ এরশাদের নজরে আসে। কোচের নিবিড় তত্ত্বাবধানে নিয়মিত অনুশীলন, শৃঙ্খলা ও কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে ধীরে ধীরে নিজের প্রতিভার বিকাশ ঘটায় তানভীর। নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস ২০২৫-২৬’ সিজন-১-এ সে বাঁশখালী উপজেলা বালক ক্রিকেট দলের হয়ে অংশ নেয়। উপজেলা পর্যায়ে ভালো পারফরম্যান্সের মাধ্যমে দলকে চ্যাম্পিয়ন হতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এরপর জেলা দলে ডাক পেয়ে চট্টগ্রাম জেলা দলের হয়েও নিজের দক্ষতার স্বাক্ষর রাখে এবং দলকে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পথে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে। পরবর্তীতে বিভাগীয় দলে সুযোগ পেয়ে জাতীয় পর্যায়ের লড়াইয়ে অংশ নেয় তানভীর। তবে বৃষ্টির কারণে ম্যাচের ফল টসের মাধ্যমে নির্ধারিত হওয়ায় চট্টগ্রাম বিভাগীয় বালক দলকে পরাজয় মেনে নিতে হয়।
এরপর জাতীয় পর্যায়ের ট্রায়ালে অংশ নিয়ে নিজের প্রতিভা ও দক্ষতার প্রমাণ দেয় তানভীর। ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের ফল হিসেবে এবার তার জন্য খুলে গেছে বিকেএসপিতে প্রশিক্ষণের সুযোগ।
কোচের পরামর্শে বদলে যায় বোলিংয়ের ধরন
নিজের সাফল্যের পেছনে কোচ মোহাম্মদ এরশাদের অবদানের কথা স্মরণ করে তানভীর বলেন, “বাঁশখালী ক্রিকেট একাডেমি প্রতিষ্ঠিত না হলে আমাদের মতো দরিদ্র পরিবারের সন্তানদের জন্য ক্রিকেট খেলা হয়তো কল্পনা করাও কঠিন হতো। শ্রদ্ধেয় কোচ মোহাম্মদ এরশাদ স্যারের প্রতি আমি আন্তরিকভাবে কৃতজ্ঞ। তাঁর মতো একজন কোচ পাওয়া আমার জন্য ভাগ্যের ব্যাপার। আজ আমি বিকেএসপিতে সুযোগ পেয়েছি—এর পেছনে স্যারের অবদান অনেক।
তানভীর আরও বলেন, “আমি যখন প্রথম স্যারের কাছে প্রশিক্ষণ নিতে আসি, তখন বাঁহাতে ফাস্ট বোলিং করতাম। একদিন স্যার আমাকে লেফট-আর্ম স্পিনার হিসেবে বল করার পরামর্শ দেন। তাঁর নির্দেশনা মেনে স্পিন বোলিং শুরু করি। স্যারের পরামর্শ, অনুপ্রেরণা ও সহযোগিতার কারণেই আজ আমি এই পর্যায়ে আসতে পেরেছি। সবকিছুর জন্য মহান আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করছি। আমার স্যারের জন্য সবার কাছে দোয়া ও তাঁর সুস্বাস্থ্য কামনা করছি।”
নিজের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কোকদণ্ডী গুনাগরী উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তানভীর বলেন, “আমার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সকল শিক্ষকের প্রতি আমি কৃতজ্ঞ। ভবিষ্যতে আরও ভালো করার জন্য বাঁশখালীবাসীর কাছে দোয়া ও আশীর্বাদ কামনা করছি।
ইউএনওর অভিনন্দন,তানভীর বিকেএসপিতে প্রশিক্ষণের সুযোগ পাওয়ায় তাকে অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানিয়েছেন বাঁশখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রুহুল আমিন। তিনি তানভীরের উত্তরোত্তর সাফল্য কামনা করার পাশাপাশি বাঁশখালী ক্রিকেট একাডেমির ক্রীড়া উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডেরও প্রশংসা করেন। কোচের প্রত্যাশা, বাঁশখালী ক্রিকেট একাডেমির পরিচালক ও প্রধান কোচ মোহাম্মদ এরশাদ বলেন, “তানভীরের এই অর্জনে আমরা অত্যন্ত আনন্দিত ও গর্বিত। তার পরিশ্রম, নিয়মিত অনুশীলন ও একাগ্রতার ফলেই এই সুযোগ এসেছে। আমরা আশা করি, বিকেএসপির প্রশিক্ষণ যথাযথভাবে কাজে লাগিয়ে সে ভবিষ্যতে আরও ভালো করবে এবং বাঁশখালীর মুখ উজ্জ্বল করবে।
তানভীরের পরিবারের পক্ষ থেকেও মহান আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া আদায় করা হয়েছে। পাশাপাশি তার ভবিষ্যৎ সাফল্যের জন্য সবার কাছে দোয়া চেয়েছেন পরিবারের সদস্যরা। ক্রীড়াসংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, প্রত্যন্ত অঞ্চল বাঁশখালী থেকে তানভীরের মতো একজন প্রতিভাবান ক্রিকেটারের বিকেএসপিতে প্রশিক্ষণের সুযোগ পাওয়া স্থানীয় তরুণদের ক্রিকেটের প্রতি আরও উৎসাহিত করবে। সঠিক প্রশিক্ষণ, পরিচর্যা ও প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা গেলে বাঁশখালী থেকেও ভবিষ্যতে জাতীয় পর্যায়ে আরও প্রতিভাবান ক্রিকেটার উঠে আসবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন তারা।

