দেশে ফেরাকে কেন্দ্র করে কাউকে বিপদে ফেলতে চাই না: শেখ হাসিনা

0
22

নিজের দেশে ফেরাকে কেন্দ্র করে কাউকে কোনো ধরনের বিপদে ফেলতে চান না বলে জানিয়েছেন ভারতে অবস্থানরত আওয়ামী লীগ সভাপতি ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, বাংলাদেশে ফেরার বিষয়ে তিনি পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন। তবে নিজের দেশে ফিরতে না পারার বিষয়টি মেনে নেওয়া তার জন্য কঠিন।

ভারতীয় গণমাধ্যম দ্য ওয়ালকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে দেশে ফেরার প্রসঙ্গে এসব কথা বলেন শেখ হাসিনা।

সাক্ষাৎকারে তাকে প্রশ্ন করা হয়, দেশে ফেরার ক্ষেত্রে তিনি কী ধরনের ‘অনুকূল পরিস্থিতির’ অপেক্ষা করছেন। জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে অনুকূল পরিবেশ তৈরি হওয়ার কোনো সম্ভাবনা তিনি দেখতে পাচ্ছেন না।

দেশে ফেরার অধিকার প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেন, তার বাবা শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশের স্বাধীনতার জন্য লড়াই করেছেন। তিনি নিজেও বাংলাদেশে বেড়ে উঠেছেন এবং স্কুলজীবন থেকেই রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তাই নিজের দেশে ফিরে যাওয়ার অধিকার কেন থাকবে না—এমন প্রশ্ন তোলেন তিনি।

শেখ হাসিনা বলেন, দেশে তার ফেরাকে কেন্দ্র করে তিনি কাউকে কোনো ধরনের ঝুঁকির মধ্যে ফেলতে চান না। একই সঙ্গে তিনি নিজের দেশে ফেরার অধিকার নিয়েও প্রশ্ন তোলেন।

দেশে ফেরার পর নিজের নিরাপত্তা নিয়েও আশঙ্কা প্রকাশ করেন সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, বাংলাদেশে ফিরে গেলে তাকে হত্যা করা হতে পারে—এমন আশঙ্কা তার রয়েছে। এ প্রসঙ্গে তিনি ২০০৪ সালের ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলার ঘটনাটিও উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, মানুষের কল্যাণে কাজ করতে হলে ঝুঁকি নিতেই হয়। তবে জীবিত থাকলে মানুষের জন্য আরও কাজ করা সম্ভব। বাবা, মা ও ভাইদের হারানোর পর দেশের মানুষকেই নিজের পরিবার হিসেবে গ্রহণ করেছেন বলেও জানান তিনি।

আওয়ামী লীগ সরকারের উন্নয়ন প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা দাবি করেন, সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড শুধু দলীয় নেতা-কর্মীদের জন্য ছিল না; বরং দেশের সব মানুষের জন্যই উন্নয়ন করা হয়েছে।

সাক্ষাৎকারে তাকে প্রশ্ন করা হয়, তিনি দেশে ফিরে গ্রেপ্তার বা কারাগারে গেলে আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব কে দেবেন। জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, দলের গঠনতন্ত্রেই এ বিষয়ে স্পষ্ট নিয়ম রয়েছে। কোনো দায়িত্বশীল ব্যক্তি অনুপস্থিত থাকলে তার পরবর্তী জ্যেষ্ঠ ব্যক্তি দায়িত্ব পালন করবেন।

এ সময় সাক্ষাৎকারগ্রহীতা জানতে চান, তিনি কি শেখ সেলিমের কথা বলছেন। জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, শেখ সেলিম বর্তমানে দলের একজন জ্যেষ্ঠ নেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। দলের নির্দিষ্ট সাংগঠনিক কাঠামো রয়েছে এবং কাউকে আলাদাভাবে ঘোষণা দিয়ে দায়িত্ব দেওয়ার প্রয়োজন হয় না।

শেখ হাসিনা বলেন, আওয়ামী লীগের দীর্ঘদিনের সাংগঠনিক নিয়ম ও শৃঙ্খলা রয়েছে। গঠনতন্ত্র অনুযায়ী কোনো পদধারী ব্যক্তি অনুপস্থিত থাকলে তার দায়িত্ব পরবর্তী ব্যক্তি পালন করবেন। এ জন্য আলাদা কোনো সিদ্ধান্তের প্রয়োজন নেই।

তিনি বলেন, ‘সেক্রেটারি অবর্তমানে জয়েন্ট সেক্রেটারি দায়িত্ব পালন করবেন। তার অবর্তমানে এরপর যিনি থাকবেন, তিনি দায়িত্ব পালন করবেন।’ দলের গঠনতন্ত্রেই কার অনুপস্থিতিতে কে দায়িত্ব পালন করবেন, সে বিষয়ে নিয়ম নির্ধারিত রয়েছে বলেও জানান তিনি।

দেশে ফেরার বিষয়ে বিএনপি সরকারের অবস্থান সম্পর্কে জানতে চাইলে শেখ হাসিনা বলেন, তাকে দেশে ফেরত পাঠানোর জন্য বিএনপি সরকার ভারত সরকারের কাছে বারবার আহ্বান জানাচ্ছে। তাদের ভয় বা উদ্বেগের কারণ কী—এর উত্তর বাংলাদেশ সরকারকেই দিতে হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা আরও দাবি করেন, তার বিরুদ্ধে ৬০০টির বেশি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে ৫০০টির বেশি হত্যা মামলা বলে দাবি করেন তিনি। একই সঙ্গে তাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here