
মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম চট্টগ্রাম বাঁশখালী প্রতিনিধি
সাম্প্রতিক ভয়াবহ বন্যায় ঘরবাড়ি হারানো চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার ১০০ পরিবারের পুনর্বাসনে নির্মিত নতুন ঘরের চাবি হস্তান্তর করা হয়েছে। রোববার (৯ আগস্ট) প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে উপকারভোগীদের হাতে নতুন ঘরের চাবি তুলে দেন। একই অনুষ্ঠানে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত আরও ২০০ পরিবারের মধ্যে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ এবং ১৫ জন প্রতিবন্ধী শিশু ও ব্যক্তিকে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়।
রোববার দুপুর ১টার দিকে হেলিকপ্টারযোগে বাঁশখালীর বাহারছড়া সমুদ্রসৈকত এলাকার হেলিপ্যাডে অবতরণ করেন প্রধানমন্ত্রী। পরে তিনি বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত একটি বাড়ি পরিদর্শন করেন। পরিদর্শন শেষে স্বামীহারা এক নারীর হাতে নতুন ঘরের চাবি তুলে দেওয়ার মধ্য দিয়ে ১০০ পরিবারের মধ্যে ঘর হস্তান্তর কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক সূচনা করেন।
চাবি হস্তান্তরকালে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসনে সরকারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহায়তা ও কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। পরে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বাঁশখালীর ১৫ জন প্রতিবন্ধী শিশু ও ব্যক্তির হাতে আর্থিক সহায়তার চেক তুলে দেওয়া হয়। পাশাপাশি ২০০ ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মধ্যে খাদ্য ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করা হয়। উপস্থিত ছিলেন মন্ত্রী, সংসদ সদস্য ও প্রশাসনের কর্মকর্তারা
অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দীন আহমেদ, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী আনিন্দ্য ইসলাম অমিত এবং সংসদ সদস্য সরওয়ার জামাল চৌধুরী নিজাম, জসীম উদ্দীন আহমদ, এনামুল হক, সাচিং প্রু, শাহজাহান চৌধুরী ও মাওলানা জহিরুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম মিয়া, পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম বিপিএম, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির সভাপতি ইদ্রিস মিয়া, সাধারণ সম্পাদক লায়ন হেলাল উদ্দিন, যুগ্ম আহ্বায়ক মিশকাতুল ইসলাম চৌধুরী পাপ্পা, সাবেক মেয়র কামরুল ইসলাম হোসাইনী, পৌরসভা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক রাসেল ইকবাল মিয়া, অ্যাডভোকেট নাছির উদ্দীন ও অ্যাডভোকেট শওকত ওসমানসহ সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানটি কামরুল ইসলাম হোসাইনী, রাসেল ইকবাল মিয়া, অ্যাডভোকেট নাছির উদ্দীন ও অ্যাডভোকেট শওকত ওসমানের যৌথ সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন বাঁশখালী উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক লোকমান আহমদ, কালীপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আলহাজ আমিনুর রহমান চৌধুরী, বৈলছড়ী ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ইব্রাহিম বিন খলিল এবং চনুয়া ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি রেজাউল হক।
বক্তারা বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পুনর্বাসনে সরকারের উদ্যোগকে স্বাগত জানান। একই সঙ্গে টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ, নদী-খাল পুনঃখনন, ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক সংস্কার এবং পুনর্বাসন কার্যক্রম আরও জোরদারের দাবি জানান।,বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ১১ হাজার ১১০ বসতবাড়ি, উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, সাম্প্রতিক বন্যায় বাঁশখালীর বিভিন্ন ইউনিয়নে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বন্যার পানিতে বসতঘর, সড়ক, কৃষিজমি ও বিভিন্ন স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় অনেক পরিবার আশ্রয়হীন হয়ে পড়ে।
প্রশাসনের হিসাব অনুযায়ী, বন্যায় উপজেলায় মোট ১১ হাজার ১১০টি বসতবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত বা বিধ্বস্ত হয়েছে। এতে হাজারো পরিবার মানবিক সংকটে পড়ে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসনে পর্যায়ক্রমে আরও নতুন ঘর নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হতে পারে বলে জানিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। পাশাপাশি প্রয়োজনীয় ত্রাণ, আর্থিক সহায়তা এবং ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো পুনর্গঠনের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। নতুন ঘরের চাবি হাতে পেয়ে উপকারভোগী পরিবারগুলোর মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে। দীর্ঘদিনের অনিশ্চয়তা কাটিয়ে নিরাপদ আশ্রয়ের সুযোগ পেয়ে তারা নতুন করে জীবন শুরু করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

