দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা ও পরিবেশ দূষণ নিরসনে হাছিয়া পাড়া ছড়ায় পরিচ্ছন্নতা অভিযান, এসিল্যান্ডের নেতৃত্বে স্বস্তি এলাকাবাসীর

0
46

মোহাম্মদ আমিনুল ইসলামচট্টগ্রাম (বাঁশখালী) প্রতিনিধি

দীর্ঘদিন ধরে ময়লা-আবর্জনা, আগাছা ও পলি জমে কালীপুর ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডের হাসিয়া পাড়া ছড়াটি কার্যত নাব্যতা হারিয়ে ফেলেছিল। ফলে সামান্য বৃষ্টি হলেই সৃষ্টি হতো জলাবদ্ধতা, নোংরা পরিবেশ এবং দুর্ভোগ। বছরের পর বছর ধরে এলাকাবাসীর ভোগান্তির অন্যতম কারণ হয়ে ওঠা এই সমস্যার নিরসনে অবশেষে প্রশাসনের উদ্যোগে পরিচালিত হয়েছে একটি পরিচ্ছন্নতা অভিযান।

বাঁশখালীর সহকারী কমিশনার (ভূমি) (এসিল্যান্ড)-এর সার্বিক তত্ত্বাবধানে পরিচালিত এ অভিযানে ছড়া থেকে জমে থাকা ময়লা, আগাছা ও প্রতিবন্ধকতা অপসারণ করা হয়। এতে দীর্ঘদিনের সমস্যার কিছুটা হলেও সমাধান হওয়ায় স্বস্তি প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

শুক্রবার (২৪ জুলাই) দিনব্যাপী অভিযান শেষে রাত সাড়ে ১১টার দিকে ঘটনাস্থলেই উপস্থিত সবার উদ্দেশ্যে ব্রিফিং করেন সম্মানিত এসিল্যান্ড। তিনি বলেন, পরিচ্ছন্ন পরিবেশ শুধু সৌন্দর্যের বিষয় নয়, এটি জনস্বাস্থ্য, জলাবদ্ধতা নিরসন এবং একটি বাসযোগ্য সমাজ গঠনের অন্যতম পূর্বশর্ত। তিনি সবাইকে নিজ নিজ এলাকার পরিবেশ রক্ষায় সচেতন হওয়ার পাশাপাশি প্রশাসনের এমন উদ্যোগে সক্রিয়ভাবে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান।

ব্রিফিংয়ে তিনি আরও বলেন, পরিচ্ছন্ন বাঁশখালী গড়ে তুলতে প্রশাসনের একার পক্ষে সবকিছু সম্ভব নয়। জনপ্রতিনিধি, সামাজিক সংগঠন এবং সাধারণ মানুষের সম্মিলিত প্রচেষ্টাই পারে একটি সুন্দর, পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য বাঁশখালী গড়ে তুলতে।

স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত এই ছড়াটি পরিষ্কার করার দাবি জানিয়ে আসলেও কার্যকর কোনো উদ্যোগ দেখা যায়নি। অবশেষে প্রশাসনের সরাসরি তত্ত্বাবধানে অভিযান পরিচালিত হওয়ায় তারা আশাবাদী, বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা আগের তুলনায় অনেকটাই কমবে এবং পরিবেশও হবে স্বাস্থ্যসম্মত।

এলাকাবাসী প্রশাসনের এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়ে বলেন, এমন জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম নিয়মিত অব্যাহত থাকলে বাঁশখালীর বিভিন্ন এলাকার দীর্ঘদিনের সমস্যাগুলোও ধীরে ধীরে সমাধানের পথে এগিয়ে যাবে।

স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, এটি শুধু একটি পরিচ্ছন্নতা অভিযান নয়; বরং দীর্ঘদিনের অবহেলা দূর করে মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে প্রশাসনের আন্তরিকতার একটি বাস্তব উদাহরণ। মানুষের কল্যাণে এমন উদ্যোগ ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে—এমন প্রত্যাশাই এখন এলাকাবাসীর।

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here