
চট্টগ্রামের উপকূলীয় লবণ চাষীরা দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছেন। দিন যায়, দিন আসে, কিন্তু দুঃখ ঠিকই থেকে যায় লবণ চাষীদের কপালে। যারা দেশকে এগিয়ে নিতে দিনের পর দিন নিজেদের রক্তবিন্দু দিয়ে দেশের অর্থনীতি ধরে রাখছেন, আজ তারাই ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত।
লবণ চাষীরা বছরে প্রায় ৬ মাস লবণ উৎপাদন করে দেশের অর্থনীতির ভারসাম্য রক্ষা করেন। তাদের কোনো দিন-রাত নেই। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রায় ১২ ঘণ্টাই তারা লবণের মাঠে কঠোর পরিশ্রমে ব্যস্ত থাকেন। কার্তিক মাস থেকে জ্যৈষ্ঠ মাস পর্যন্ত এই লবণ চাষ চলমান থাকে।
লবণ চাষীদের জীবন অত্যন্ত কষ্টের। প্রচণ্ড রোদে, যখন গড় তাপমাত্রা থাকে প্রায় ২৫°C থেকে ৩৫°C, তখনও তারা খোলা মাঠে কাজ করে যান। মাথার উপর জ্বলন্ত সূর্য, চারপাশে গরম বাতাস—তবুও থেমে থাকে না তাদের পরিশ্রম।
এই তীব্র গরমে ঘাম ঝরিয়ে তারা সমুদ্রের পানি শুকিয়ে লবণ তৈরি করেন। পা পুড়ে যাওয়ার মতো গরম মাটিতে দাঁড়িয়ে কাজ করা, দীর্ঘ সময় রোদে থাকা—সব মিলিয়ে এটি অত্যন্ত কষ্টসাধ্য একটি পেশা। তবুও তাদের ঘামেই দেশের লবণ শিল্প টিকে আছে।
কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, তারা তাদের উৎপাদিত লবণের ন্যায্য মূল্য পান না। যেখানে বাজারে লবণের দাম ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা, সেখানে চাষীদের দেওয়া হয় মাত্র ২০০ থেকে ২২০ টাকা প্রতি মণ। যদি দেশের লবণ শিল্পকে বাঁচিয়ে রাখতে হয়, তাহলে অবশ্যই চাষীদের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করতে হবে।
প্রতিবছর উপকূলীয় লবণ চাষীরা দেশের অর্থনীতির ভারসাম্য বজায় রাখতে বিশাল ভূমিকা পালন করছেন। উৎপাদনের পরিসংখ্যানও তার প্রমাণ বহন করে—
২০২০–২১ → প্রায় ১৮–১৯ লাখ টন ২০২১–২২ → প্রায় ১৮.৩ লাখ টন ২০২২–২৩ → প্রায় ২২.৩৩ লাখ টন (রেকর্ড উচ্চ উৎপাদন) ২০২৩–২৪ → প্রায় ২২.৩–২২.৪ লাখ টন (রেকর্ডের কাছাকাছি) ২০২৪–২৫ → প্রায় ২৪.৩–২৬.১ লাখ টন (আনুমানিক/টার্গেট ও সর্বোচ্চ উৎপাদন)
একটি সিজনে একজন লবণ চাষীর প্রায় ১ লাখ ৭০ হাজার টাকা পর্যন্ত খরচ হয়। এর মধ্যে বৃষ্টি, ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস এবং বাজারে কম দামের কারণে তারা প্রায়ই লোকসানের মুখে পড়েন। প্রচণ্ড রোদে ঘণ্টার পর ঘণ্টা কাজ করেও অনেক চাষি ন্যায্য লাভ পান না। তবুও দেশের চাহিদা পূরণে তারা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।
লবণ চাষীরা তীব্র রোদে ঘাম ঝরিয়ে দেশের মানুষের জন্য সাদা লবণ তৈরি করেন। প্রচণ্ড গরম আর অসীম কষ্ট সহ্য করেও তারা জীবনযুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছেন। তাদের এই কঠোর পরিশ্রমের যেন সঠিক মূল্য দেওয়া হয়।
লবণ চাষীদের ন্যায্য দাম ও সম্মান নিশ্চিত করা আমাদের সবার দায়িত্ব। কারণ তাদের ঘামেই উপকূলের মাঠ থেকে উঠে আসে দেশের প্রয়োজনীয় লবণ।
লেখক : আরকান
১০ শ্রেণির ছাত্র
গন্ডামারা আদর্শ উচ্চবিদ্যালয়

