
মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম, বাঁশখালী (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি:
টানা ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট ভয়াবহ বন্যায় চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার পুকুরিয়া ইউনিয়নের জনজীবন কার্যত বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। পানিবন্দি হাজারো পরিবার চরম দুর্ভোগের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। কোথাও রান্নার চুলা জ্বলছে না, কোথাও আবার একমুঠো খাবারের জন্য অসহায়ভাবে অপেক্ষা করছেন মানুষ। এমন সংকটময় সময়ে বন্যাদুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে পুকুরিয়া ইউনিয়ন পরিষদ। পুকুরিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মো. আসহাব উদ্দীনের নেতৃত্বে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত অসহায় ও দুস্থ পরিবারের মাঝে ১০ কেজি করে বিনামূল্যে চাল বিতরণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। সরকারি খাদ্য সহায়তার এই উদ্যোগে স্বস্তি ফিরতে শুরু করেছে দুর্গত মানুষের মাঝে।
বন্যার পানিতে ইউনিয়নের বিভিন্ন ওয়ার্ড তলিয়ে যাওয়ায় অসংখ্য পরিবার ঘরবাড়ি, আসবাবপত্র ও নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী হারিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে। অনেকেই কর্মহীন হয়ে পড়ায় খাদ্যসংকট দিন দিন আরও প্রকট হয়ে উঠেছে। এমন বাস্তবতায় প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের তালিকা অনুযায়ী পর্যায়ক্রমে প্রতিটি পরিবারের হাতে ১০ কেজি করে চাল তুলে দেওয়া হচ্ছে।
চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মো. আসহাব উদ্দীন বলেন, “মানুষের দুঃসময়ে তাদের পাশে দাঁড়ানো আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। পুকুরিয়া ইউনিয়নের কোনো অসহায় পরিবার যেন খাদ্য সহায়তা থেকে বঞ্চিত না হয়, সে বিষয়টি আমরা সর্বোচ্চ গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি। সরকারি বরাদ্দ অনুযায়ী পর্যায়ক্রমে সকল ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের কাছে খাদ্য সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হবে।”
ত্রাণ বিতরণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন টেকনিক্যাল অফিসার ও উপজেলা পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা মো. এনামুল করিম, প্রশাসনিক কর্মকর্তা শরীফ মঈনউদ্দীন, পুকুরিয়া ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যানবৃন্দ, সকল ইউপি সদস্য, সংরক্ষিত মহিলা সদস্যবৃন্দ এবং স্থানীয় রাজনৈতিক ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ। এ সময় তারা ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের খোঁজখবর নেন এবং নিজ হাতে খাদ্য সহায়তা তুলে দেন।
ত্রাণ পেয়ে অনেক বন্যাদুর্গত পরিবার আবেগাপ্লুত হয়ে ইউনিয়ন পরিষদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তাদের ভাষ্য, বন্যার কারণে আয়-রোজগারের পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় অনেক পরিবার চরম খাদ্যসংকটে পড়েছে। এমন কঠিন সময়ে ১০ কেজি চালের এই সহায়তা তাদের জন্য একটুখানি স্বস্তি ও নতুন আশার আলো হয়ে এসেছে। স্থানীয়রা জানান, দুর্গত মানুষের কষ্ট এখনও শেষ হয়নি। তাই সরকারি সহায়তার পাশাপাশি সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি, বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন ও মানবিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও বেশি করে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তারা।
দুর্যোগের এই কঠিন সময়ে পুকুরিয়া ইউনিয়ন পরিষদের মানবিক উদ্যোগ বন্যাকবলিত মানুষের মাঝে নতুন করে আশা ও সাহসের সঞ্চার করেছে। ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের প্রত্যাশা, দ্রুত সময়ে প্রয়োজনীয় খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি ও অন্যান্য ত্রাণসামগ্রী প্রতিটি দুর্গত পরিবারের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়া হবে, যাতে তারা আবারও স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারেন।

