মোনায়েম শাহ বাজারে অভিযান: মাছের প্রজেক্ট থেকে মানবস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর মুরগির নাড়িভুঁড়িসহ বহনকারী গাড়ি জব্দ

0
33

মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম চট্টগ্রাম বাঁশখালী প্রতিনিধি

চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার মোনায়েম শাহ বাজারের পশ্চিম পাশে বেঁড়িবাঁধ সংলগ্ন একটি মাছের প্রজেক্টে অভিযান চালিয়ে মাছের খাদ্য হিসেবে ব্যবহারের উদ্দেশ্যে আনা মানবস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর বিপুল পরিমাণ মুরগির নাড়িভুঁড়িসহ একটি বহনকারী গাড়ি জব্দ করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বাঁশখালী উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) জনাব ওমর সানি আকন-এর নির্দেশক্রমে রামদাস মুন্সিরহাট পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ ইন্সপেক্টর তপন কুমার বাকচি-এর নেতৃত্বে পুলিশের একটি চৌকস দল অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে স্থানীয় ব্যক্তি নুর উদ্দিন ছোটন-এর মালিকানাধীন বলে পরিচিত মোনায়েম শাহ বাজারের পশ্চিম পাশের বেঁড়িবাঁধ সংলগ্ন মাছের প্রজেক্টে তল্লাশি চালানো হয়। এ সময় মাছের খাদ্য হিসেবে ব্যবহারের উদ্দেশ্যে সংরক্ষিত বিপুল পরিমাণ অস্বাস্থ্যকর মুরগির নাড়িভুঁড়ি এবং সেগুলো বহনকারী একটি গাড়ি জব্দ করা হয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে অধিক লাভের আশায় উক্ত প্রজেক্টে মাছের খাদ্য হিসেবে পচা ও অস্বাস্থ্যকর মুরগির নাড়িভুঁড়ি ব্যবহার করা হচ্ছিল। এর ফলে একদিকে জনস্বাস্থ্যের ঝুঁকি তৈরি হচ্ছিল, অন্যদিকে পরিবেশ দূষণের ঘটনাও ঘটছিল। এসব বর্জ্য থেকে সৃষ্ট দুর্গন্ধের কারণে আশপাশের বাসিন্দারাও দীর্ঘদিন ধরে দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

তবে উল্লেখ্য, মুরগির নাড়িভুঁড়ি ব্যবহারের কারণে সরাসরি ক্যান্সার সৃষ্টি হয়—এমন দাবির পক্ষে এ প্রতিবেদন প্রকাশের সময় পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোনো বৈজ্ঞানিক বা সরকারি পরীক্ষার প্রতিবেদন পাওয়া যায়নি। তবে অস্বাস্থ্যকর ও অনিরাপদ উপাদান ব্যবহার করে মাছ চাষ জনস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে থাকেন।
অভিযান সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, জব্দকৃত মুরগির নাড়িভুঁড়ি ও বহনকারী গাড়ির বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা, নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতকরণ এবং পরিবেশ রক্ষায় প্রশাসনের এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

এদিকে প্রশাসনের এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল। তারা খাদ্যে ভেজাল ও অস্বাস্থ্যকর উপকরণ ব্যবহারকারীদের বিরুদ্ধে নিয়মিত নজরদারি বৃদ্ধি এবং কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here