
স্টাফ রিপোর্টার :মোহাম্মদ আসাদুল ইসলাম
চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলায় মাদকের বিরুদ্ধে দিনভর অভিযান পরিচালনার পর বৃহস্পতিবার (২১ মে) রাতেও অব্যাহত ছিল প্রশাসনের কঠোর তৎপরতা। বাঁশখালী থানা পুলিশের সহযোগিতায় মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ ওমর সানী আকন। পৃথক অভিযানে নেশাগ্রস্ত অবস্থায় অস্বাভাবিক আচরণ করে জনশৃঙ্খলা বিনষ্ট করার দায়ে ৪ জনকে কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার দুপুর প্রায় ১২টার দিকে উপজেলার চাম্বল ইউনিয়নের আজানিপাড়া এলাকায় মোবাইল কোর্ট অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় ইয়াবাসহ নেশাগ্রস্ত অবস্থায় বোয়ালখালী উপজেলার বাসিন্দা ও পেশায় রাজমিস্ত্রী মোঃ সাজ্জাদ হোসেন (২৮)কে আটক করা হয়। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালত তাকে দুই মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেন।
এরপর রাত সাড়ে ৯টার দিকে জলদী পৌরসভার মিয়ার বাজার মাছগলি এলাকায় অভিযান চালানো হয়। অভিযানে নেশাগ্রস্ত অবস্থায় জনসাধারণের শান্তি বিনষ্ট করার অভিযোগে বাহারুল্লাপাড়া এলাকার আমির হোসেনের ছেলে ও পেশায় প্যাকেজ ড্যান্সার মোঃ হৃদয় (২৫) এবং মৃত সৈয়দ আহমদের ছেলে, এক্সক্যাভেটর চালক আজিজ আহমদ (৩০)কে আটক করা হয়। মোবাইল কোর্ট উভয়কে চার মাস করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেন।
অপরদিকে রাত ১১টার পর জলদী পৌরসভার বড়ুয়াপাড়া এলাকায় পরিচালিত আরেকটি অভিযানে দীর্ঘদিন ধরে শুঁটকি ব্যবসার আড়ালে মাদক ব্যবসার অভিযোগে ষাটোর্ধ্ব মৃদুল বড়ুয়াকে নিজ বাড়ি থেকে নেশাগ্রস্ত অবস্থায় হাতেনাতে আটক করা হয়। এ সময় তার বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে বিভিন্ন স্থান থেকে মদভর্তি বোতল এবং মদ বিক্রির কাজে ব্যবহৃত অসংখ্য খালি বোতল উদ্ধার করা হয়।
অভিযান চলাকালে তিন যুবক মদ কিনতে মৃদুল বড়ুয়ার বাড়িতে এলে মোবাইল কোর্টের উপস্থিতি টের পেয়ে তারা দ্রুত পালিয়ে যায় বলে জানা গেছে। উল্লেখ্য, মৃদুল বড়ুয়ার বিরুদ্ধে এর আগেও মাদক বিক্রির অভিযোগ রয়েছে এবং তিনি পূর্বে কারাভোগও করেছেন। সর্বশেষ অভিযানে তাকে ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মাদক নির্মূলে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

