অবহেলিত কালিপুরকে মডেল ইউনিয়নে রূপান্তরের স্বপ্ন দেখেন ব্যবসায়ী মোহাম্মদ আরিফ

0
101

মোহাম্মদ জামাল উদ্দিন জাহেদ – বাঁশখালী, চট্টগ্রাম

চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার কালিপুর ইউনিয়নের পরিচিত মুখ ও কৃতী সন্তান মোহাম্মদ আরিফ। পেশায় একজন ব্যবসায়ী হলেও তাঁর পরিচিতি কেবল ব্যবসার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। নিজের ব্যবসা পরিচালনার পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরে এলাকার অসহায়, সুবিধাবঞ্চিত ও সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে সামাজিক কর্মকাণ্ডে ভূমিকা রেখে চলেছেন তিনি। স্থানীয় মানুষের সুখে-দুঃখে পাশে থাকার প্রত্যয় নিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন এই তরুণ সমাজসেবী।

কালিপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় যখনই কোনো অসহায় মানুষ বিপদে পড়েন, কিংবা কেউ সহযোগিতার প্রত্যাশায় থাকেন, তখনই নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেন মোহাম্মদ আরিফ। অনেকের কাছে তিনি হয়ে উঠেছেন ভরসার একটি নাম। বিশেষ করে সাধারণ মানুষের বিপদে এগিয়ে আসা, শ্রমজীবী মানুষের অধিকার ও স্বার্থ রক্ষায় ভূমিকা রাখা এবং এলাকার সামাজিক উন্নয়নে অংশগ্রহণের কারণে স্থানীয় পর্যায়ে তাঁর একটি আলাদা পরিচিতি তৈরি হয়েছে।

মোহাম্মদ আরিফের সামাজিক ও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডের অন্যতম উল্লেখযোগ্য দিক হলো অবহেলিত সিএনজিচালকদের পাশে দাঁড়ানো। একসময় অবহেলা ও নানা সমস্যার মধ্যে থাকা সিএনজিচালকদের আস্থা অর্জন করে বিপুল ভোটে নির্বাচিত হয়েছিলেন তিনি। দায়িত্ব পালনকালে চালকদের বিভিন্ন সমস্যা, অধিকার ও স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে কাজ করেছেন বলে স্থানীয়দের ভাষ্য।

শ্রমজীবী মানুষের সঙ্গে তাঁর এই সম্পৃক্ততা তাঁকে সাধারণ মানুষের আরও কাছাকাছি নিয়ে এসেছে। বিশেষ করে পরিবহন খাতের শ্রমজীবী মানুষের সঙ্গে দীর্ঘদিনের যোগাযোগ ও তাঁদের সমস্যাগুলো কাছ থেকে দেখার অভিজ্ঞতা তাঁর সামাজিক কর্মকাণ্ডে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

এবার স্থানীয় সরকার নির্বাচনে কালিপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদে মোহাম্মদ আরিফকে দেখতে চান বলে জানিয়েছেন তাঁর সমর্থক ও স্থানীয়দের একটি অংশ। তাঁদের প্রত্যাশা, তিনি যদি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার সুযোগ পান, তাহলে দীর্ঘদিনের অবহেলা ও নানা সমস্যায় জর্জরিত কালিপুর ইউনিয়নের উন্নয়নে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবেন।

স্থানীয়দের প্রত্যাশা, ইউনিয়নের রাস্তাঘাটের উন্নয়ন, যোগাযোগব্যবস্থার আধুনিকায়ন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন, বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা, মাদক ও সামাজিক অপরাধ প্রতিরোধ এবং অসহায় মানুষের জন্য সরকারি সেবার সুযোগ নিশ্চিত করার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।

তাঁদের মতে, জনপ্রতিনিধির মূল দায়িত্ব শুধু নির্বাচনের সময় মানুষের কাছে যাওয়া নয়, বরং বছরের প্রতিটি দিন সাধারণ মানুষের পাশে থাকা। সেই জায়গা থেকে মোহাম্মদ আরিফের দীর্ঘদিনের সামাজিক সম্পৃক্ততা ও মানুষের সঙ্গে যোগাযোগকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন তাঁর সমর্থকরা।

একটি আধুনিক, পরিকল্পিত ও জনবান্ধব ইউনিয়ন গড়ে তোলার প্রত্যাশা এখন কালিপুরের অনেক মানুষের। তাঁদের স্বপ্ন, কালিপুর হবে এমন একটি ইউনিয়ন, যেখানে উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে কোনো ওয়ার্ড অবহেলিত থাকবে না, অসহায় মানুষ ন্যায্য সহযোগিতা পাবেন এবং সাধারণ মানুষ তাঁদের প্রয়োজন ও সমস্যার কথা জনপ্রতিনিধির কাছে নির্ভয়ে তুলে ধরতে পারবেন।

ব্যবসার পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরে সামাজিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত থাকা মোহাম্মদ আরিফকে ঘিরে স্থানীয় পর্যায়ে যে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে, তা আগামী দিনের রাজনীতিতে কতটা প্রভাব ফেলবে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

তবে সব প্রত্যাশা ও সম্ভাবনার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসবে জনগণের ভোটের মাধ্যমে। আরিফ চেয়ারম্যান নির্বাচিত হলে কালিপুর ইউনিয়নকে একটি আধুনিক ও মডেল ইউনিয়নে রূপান্তরের যে স্বপ্ন স্থানীয়দের একাংশ দেখছেন, সেটি বাস্তবে কতটা রূপ পায়, তার উত্তর দেবে সময়ই।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here