বাঁশখালীতে শতবর্ষী পুকুর ভরাট কর্মযজ্ঞ! মাটির যোগান পাহাড় কাটা ও ফসলি জমি!

0
31

চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে প্রশাসনের নাকের ডগায় শতবর্ষী দারগা পুকুর প্রায় ভরাটের পথে। পৌরসভার জলদী মিয়ার বাজারের পূর্ব পার্শ্বে চৌধুরী মার্কেটের পেছনে নতুন মার্কেট নির্মাণের জন্য পাহাড় কেটে ও ফসলি জমির মাটি এনে পুকুরটি ভরাট করা হচ্ছে। আইন লঙ্ঘন করে দিনদুপুরে পুকুর ভরাটের কর্মযজ্ঞ চললেও উপজেলা প্রশাসন, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়, পৌরসভা কর্তৃপক্ষ ও পুলিশ প্রশাসন সাক্ষী গোপালের ভূমিকায় থেকে ‘চুপচাপ’! অথচ যে কোন ধরণের পুকুর ভরাটে উচ্চ আদালতের নিষেধাজ্ঞা রয়েছে এবং জেলা প্রশাসকের স্পষ্ট নির্দেশনা পুকুর ভরাট বন্ধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিতে হবে।

এ ব্যাপারে চট্টগ্রাম আদালতের এডভোকেট মুহাম্মদ আবদুল ওয়াহেদ হোছাইনী বলেন, পরিবেশ আইন-১৯৯৫ ও জলাধার সংরক্ষণ আইন-২০০০ এর বিধান অনুসারে যে কোন জলাশয় ভরাট নিষিদ্ধ এবং উচ্চ আদালতের নির্দেশনায় ব্যক্তিগত পুকুর হলেও জলাধার সংরক্ষণ আইনে তা জলাধারের সংজ্ঞার অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় ভরাট করা যাবে না। পরিবেশবিদরা বলেন, জীববৈচিত্র্য রক্ষা এবং ভবিষ্যৎ প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে পরিবেশ রক্ষায় পাহাড়ের প্রয়োজন অপরিসীম। বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন-১৯৯৫ এর বিধান অনুসারে শুধুমাত্র জাতীয় স্বার্থের প্রয়োজনে অধিদপ্তরের ছাড়পত্র গ্রহণক্রমে কোন পাহাড় কাটা যেতে পারে। এদিকে কৃষি কর্মকর্তারা বলেন, ফসলি জমির উপরিভাগের ১০ থেকে ১২ ইঞ্চির মধ্যে মাটির জৈব উপাদান থাকে। আর সেই মাটি কাটা হলে জমির জৈব উপাদান চলে যায়। এতে জমির স্থায়ী ক্ষতি হয়। ফলে খাদ্য উৎপাদনে দেশে মারাত্মক প্রভাব পড়বে। তাই ফসলি জমির মাটি কাটা বেআইনি।

এরই মধ্যে এসিল্যান্ড {উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি)} ঘটনাস্থলে অভিযান চালালেও অবৈধ মাটি সরবরাহকারী ও পুকুর ভরাটকারীর বিরুদ্ধে আইনানুগ দৃশ্যমান কোন ব্যবস্থা নিতে দেখা যায়নি। নামকাওয়াস্তে এই অভিযানের পরপরই পুকুরের খোলামেলা অংশে সীমানা প্রাচীর তৈরী করা হয়। লোকচক্ষুর আড়ালে বিরতি দিয়ে দিয়ে সুযোগ বুঝে রাতের আধারে চলছে পুকুর ভরাটের কার্যক্রম। “যে যায় লঙ্কায় সেই হয় রাবন” এ ঘটনায় অভিযান পরিচালনাকারীর ভূমিকা ঠিক যেন তাই।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এতটাই সুরক্ষিত ও সংরক্ষিত ছিল অবাধে ব্যবহার দূরের কথা একসময় মানুষ শতবর্ষী এই দারগা পুকুরের পানি পান করত। সরজমিনে দেখা যায়, পুকুরটির আশেপাশে রয়েছে দোকানপাট, কাঁচাবাজার, ছোট-বড় মার্কেট, স্কুল-কলেজ সহ জনগুরুত্বপূর্ণ সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন স্থাপনা ও বসবাসের ঘরবাড়ী। এসবের অগ্নিকাণ্ড-নির্বাপন পানির অন্যতম উৎস শতবর্ষী এই দারগা পুকুর। পরিবেশ রক্ষার্থে ও যেকোন অগ্নিকাণ্ড-নির্বাপনে অপরিসিম ভূমিকা রাখায় এই পুকুরটি ভরাটের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়ে পুনরায় আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট জোর দাবী জানান এলাকাবাসী ও দেশপ্রেমি সচেতন মহল।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here